দেশের বাজারে আকাশচুম্বী সোনার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দাম কমার ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। আজ শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি জানিয়েছে, মানভেদে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
একদিনের ব্যবধানে দাম কমানোর ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকেই। শুক্রবার প্রতি ভরিতে দাম কমেছিল ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা। ফলে গত দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমেছে।
উল্লেখ্য, এই পতনের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার এক লাফে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ছিল দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। মূলত বৃহস্পতিবারের সেই রেকর্ড উচ্চতা থেকেই এখন দাম সংশোধনের পথে হাঁটছে জুয়েলার্স সমিতি।
জুয়েলার্স সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনা বা পাকা সোনার সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে সোনার দামের বড় ধরনের পতনই এর প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের স্থিতিশীলতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সোনার চাহিদাও কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে এসে পড়েছে।
২২ ক্যারেটের পাশাপাশি আজ শনিবার থেকে ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জুয়েলার্স সমিতির নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট ভরিপ্রতি ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা কমে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা। ১৮ ক্যারেট ভরিপ্রতি ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকায়।
সোনার মতো আজ রুপার বাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। শ্রেণি ভেদে রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৪৬৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপা ৪৬৭ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপাও ৪৬৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪০ টাকায়। ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমে হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩৫০ টাকা কমে ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে অতিমারি পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে গত পাঁচ বছরে সোনার দাম বেড়েছে রকেটের গতিতে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো দেশে সোনার ভরি ১ লাখ টাকার ঘর স্পর্শ করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা দেড় লাখ এবং অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। গত এক সপ্তাহেই তা আড়াই লাখ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজারে পৌঁছায়। তবে আজকের এই বড় ধরনের দরপতন সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
লাগামহীন সোনার দামে এই রেকর্ড পতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সামনে যাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে। তবে বাজার এখনো বেশ অস্থিতিশীল থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও সামনের দিনগুলোতে দাম আরও ওঠানামা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসএইচ











