কেলেঙ্কারী ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে খালেককে কারণ দর্শানো নোটিশ

আর্থিক কেলেঙ্কারী ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা সিইও মোঃ আব্দুল খালেক মিয়ার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড।  প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে খালেক মিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে আগামী ৮ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কোম্পানীর স্বার্থবিরোধী নানাকর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন আব্দুল খালেক মিয়া। তার এসব কর্মকান্ডে বেসরকারী সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানটির অস্থিত্ব ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।  খালেক মিয়ার র্বিতকিত কর্মকান্ড নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

২৫ আগস্ট লিখা এই চিঠিতে আব্দুল খালেকের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এতে বলা হয়- কোম্পানীতে যোগদানের পর থেকেই ব্যবস্থাপনায় খালেক মিয়ার অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতায় একাধিক শাখা বন্ধ হয়েছে এবং অনেক শাখা দীর্ঘদিন লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। তার রুক্ষ ও অমানবিক ব্যবহারে অতিষ্ট হয়ে বহু দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য শাখা প্রধান ও ডেস্ক কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে কোম্পানী ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন। এমনকি নিম্নশ্রেণী থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা- প্রায় সবার ওপর তিনি ক্রমাগত চাকুরীচ্যুতির হুমকি দিয়ে অফিসে আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন- যা কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে খালেক মিয়া পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের মাধ্যমে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের অস্বাভাবিক সুবিধা দিয়েছেন, অন্যদিকে অনেক কর্মকর্তাকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বিপুল অংকের প্রিমিয়ামের টাকা কোম্পানীর হিসাবে জমা না করেই ব্যবসা করেছেন খালেক। এমনকি, কোম্পানীকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ করে অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে একাধিক বীমা ডকুমেন্ট বাতিল করেছেন- যা কোম্পানীর নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘনের সামিল।  এসব কর্মকান্ডে অপরিমিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, এমন দাবী করা হয় ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে।

এতে আরো বলা হয়, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স-এ আব্দুল খালেক এবং তার স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে।  এতে করে খালেকের নামের সঙ্গে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নাম জড়িত থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।  খালেক কান্ডে গ্রাহক ও জনগণের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় কোম্পানীর অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

‘অনিয়ম ও অভিযোগ’ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা এই সিইও কোম্পানীর বিপুল অর্থ অপব্যয় করে মিডিয়ার লোকজনকে আপ্যায়ন ও উৎকোচ দিয়েছেন- কারণ দর্শানোর নোটিশে এ তথ্যও তুলে ধরা হয়।

কোম্পানীর পরিচালকদের সঙ্গে অত্যন্ত অবমাননাকর, অসৌজন্যমূলক ও অশালীন আচরণ করেন আব্দুল খালেক- এমন দাবী করে ‘অফিস চলাকালীন নানা রাজনৈতিক আলাপে জড়িয়ে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহতর’ অভিযোগও আনা হয় বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা এই সিইওর বিরুদ্ধে।

এছাড়াও খালেক মিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী ও অস্তিত্বের জন্যও মারাত্মক হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে এসব কর্মকান্ডে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়। একইসঙ্গে এসব অভিযোগ নিয়ে মো. আব্দুল খালেক মিয়ার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না-তার লিখিত জবাব আগামী ৮ (আট) কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স থেকে অপসারণ করা হয় বিতর্কিত সিইও আব্দুল খালেক মিয়াকে।  পরিচালনা পর্ষদের ২৪৮ তম সভায় তাকে চাকরি থেকে অপসারনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি আব্দুল খালেক মিয়াকে পাঠানো হয়।

এছাড়াও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সাবেক সিইও আব্দুল খালেক মিয়া ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তারকে আইনি নোটিশ পাঠায় সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স। গত ২৫ জুন সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম কবির খান এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসাতকৃত অর্থ কোম্পানির হিসাবে জমা দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ করা হয়।