যমুনা লাইফের কেলেঙ্কারি ধামাচাপায় প্রিন্সের নতুন মিশন!

শাহাদাত হোসেন:

 

চট্রগ্রামের ‘এফডিআর কেলেঙ্কারি’ ধামাচাপা দিতে এবার নতুন মিশনে নেমেছে যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি খাজা আব্দুল আউয়াল প্রিন্সকে দেয়া হয়েছে নয়া মিশনের দায়িত্ব। তিনি এখন নিয়মিত ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ছুটছেন। কিভাবে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ ছাড়াই ঘটনা ধামাচাঁপা দেওয়া যায়, সেই অন্ধকার পথে হাটছে যমুনা লাইফ। এ বিষয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। অবিলম্বে টাকা না পেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ঘেরাও এবং কঠোর আন্দোলন করবেন তাঁরা।

বেসরকারি খাতের যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের চারজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিনব উপায়ে ৯৩ জন গ্রাহকের ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে। এফডিআর বা মেয়াদি আমানতের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছে না কোম্পানিটি। মাসে মাসে কোনো মুনাফাও দিচ্ছে না।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার ৯৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা তুলেছে যমুনা লাইফ। এক বছরে ৯ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল এই অর্থ তুলে নেয় কোম্পানিটি। পরে সেই টাকাগুলো গ্রাহকদের না জানিয়ে ১৫-২০ বছর মেয়াদি বিমা পলিসি করে ফেলে যমুনা লাইফ। এতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন গ্রাহকরা। ফলে অর্থ ফেরত না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

অভিযোগে আরো বলা হয়, গ্রাহকদের বলা হয়েছিল কোম্পানিতে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখলে উচ্চ সুদ পাওয়া যাবে। গ্রাহকেরা সেই আশ্বাসে টাকা রাখেনও। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকেরা দেখতে পান তাঁদের অগোচরেই ওই টাকা বিমা পলিসিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আবার বিমা পলিসিগুলোও কার্যকর নয়। চট্টগ্রামভিত্তিক এ গ্রাহকদের টাকাগুলো মূলত আত্মসাৎ করা হয়েছে।

যমুনা লাইফ ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করে যে ওই কোম্পানিতে এফডিআর করলে ৯ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে। ওই প্রজ্ঞাপন দেখে তখন ৯৩ জন যমুনা লাইফে এফডিআর করেন।

জানা গেছে, অর্থ আত্মসাতের সাথে সিইও কামরুল হাসান খন্দকার, এএমডি জসিম উদ্দিন ও জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উঠে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। বরং সবাইকে ‘সেইফ এক্সিট’ তৈরী করে দেয়ার অভিযোগ উঠে স্বয়ং যমুনা লাইফের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, আতিকুর রহমান ও মিসির রায়হান নামের তিন কর্মকর্তা এক চিঠিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে কীভাবে এ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তার পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরলে- তাঁদেরও পরে বরখাস্ত করা হয়।

সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সিইও কামরুল হাসানের নেতৃত্বে চারজনের মাধ্যমে মূলত এ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। একই কথা বলেন আতিকুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির পর্ষদকে এ ঘটনা জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং আমাদের তিনজনকে বরখাস্ত করেছে।’

এ ঘটনায় আইডিয়ারএ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করলেও, অদৃশ্য কারণে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি যমুনা কর্তৃপক্ষ।

এখন দেশজুড়ে আলোচিত এই এফডিআর কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে মরিয়া যমুনা লাইফ। তাঁরা দূর্নীতিবাজ
প্রিন্সকে দালাল হিসেবে মাঠে নামিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। তবে কার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছেন প্রিন্স- সেই প্রশ্ন উঠেছে। এফডিআর কেলেঙ্কারির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক সিইও কামরুল হাসান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন, নাকি চেয়ারম্যান বদরুল আলম কার হয়ে মাঠে নেমেছেন এই ডিএমডি প্রিন্স- তা খুঁজে বের করে অবিলম্বে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি গ্রাহকদের। একইসঙ্গে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

বিমা খাতের ভাবমূর্তি বজায় রাখার স্বার্থেই জালিয়াত চক্রটিকে চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে বর্তমান সরকারের কাছে সহায়তা চাচ্ছেন গ্রাহকরা।