বীমা শিল্পকে ধ্বংসের পথে নেমেছে মোঃ জহির উদ্দিন। নিজেকে কখনো ইন্সুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা, কখনো আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন সংস্থায় পরিচয়ে বীমা বা ইন্সুরেন্স নিয়ে দেশের জনগনের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে মাঠে নেমেছে। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ওবায়দুল কাদের এর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে হোমল্যান্ড , প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সহ অনেক বীমা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি করে এসব প্রতিষ্ঠান এর সুনাম নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে।দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত মোঃ জহির উদ্দিন এর অপরাধগুলো একে একে সামনে আসার পর প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাকে বের করে দেয়ার পরও তার ষড়যন্ত্র থেমে নেই।
মোঃ জহির উদ্দিন মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের মাধ্যমে পত্র পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করেছে যার কোন সত্যতা নেই। অধিকন্তু কোম্পানির কোন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ বা যাচাই-বাছাই না করে শুধুমাত্র একজন অভ্যসগত অপরাধী, অর্থলোপাটকারী ও মুখোশধারী একাধিক কোম্পানি হতে বরখাস্ত হওয়া জহিরের সাজানো ঘটনার উপরেই কাল্পনিক বিষয়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।এতে বীমা কোম্পানিগুলোর উপর জনগনের আস্থার সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।একে অনেকে বলছেন রাষ্ট্রের বীমা শিল্প নিয়ে তার গভীর দুরভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
বীমাশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বিগত সরকার এর কোন কোন ব্যক্তির আশ্রয় প্রশ্রয়েই সে অনেক অপরাধ করেও পার পেয়ে গেছেন। হোমল্যান্ড , প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সহ অনেক বীমা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দুর্নীতি, প্রতারণা, অর্থ-আত্নসাৎ, পরিচালকদের হুমকি-ধমকি এবং শেয়ার জাল-জালিয়াতি কারায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকাসত্ত্বেও সে প্রকাশ্যে বীমাখাত নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে বিগত সরকারের সময় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ) তার বিরুদ্ধে একাধিক চিঠি ইস্যু করেছে।
দুর্নীতিবাজ মোঃ জহির উদ্দিনকে হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সে শেয়ার জাল-জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত থাকায় বিগত ১৫/০২/২০১৭ইং তারিখে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। ২ আগস্ট ২০২৩ আইডিআরএ এর চিঠিতে বলা হয়েছে,হোমল্যান্ড লাইফে থাকাকালে বিভিন্ন প্রতারনা,অর্থ-আত্মসাৎ ও শেয়ার জাল জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়। সেখানে ১০৪ কোটি টাকা আত্নসাতের তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন গত ২৭/০২/২০২৪ তারিখে জহির উদ্দিনকে তলবও করে।

প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক পদে থাকায় উক্ত পদগুলি থেকে অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশনা দেয় ১৮ জুন ২০২৩।একই মাসে আবার তাকে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের আইনানুগ কোন সুযোগ নেই মর্মে চিঠি দেয় আইডিআরএ।নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাকে অমান্য করায় ৩০ জুলাই ২০২৩ এ আরও একটি চিঠি ইস্যু করে যেখানে বলা হয়,অভিযুক্ত জহির উদ্দিন বীমা আইন লঙ্গন করেছেন তাই তাকে জরিমানা করা হবে।
উল্লেখিত কর্মকাণ্ডের কারনেই জহির উদ্দিনকে ৩১ জুলাই পরিচালনা পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে তৎক্ষণাৎ অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
মোঃ জহির উদ্দিন এর দেনা পাওনার বিষয়ে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সার্ভিস রুলস মোতাবেক নিস্পত্তি সাপেক্ষে ছাড়পত্র প্রদানের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ) চিঠি প্রদান করে চলেছে অথচ বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম এর আদালতে চলমান মামলায় শুনানিঅন্তে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আদেশে বলা হয়েছে,সরকারের নিরপেক্ষ সংস্থা ডিবি দীর্ঘ তদন্তের পরে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী অর্থ-আত্মসাৎ এর সত্যতা পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে গত ৪-৪-২০২৪ইং তারিখের প্রতিবেদন দাখিল করেন যেখানে অন্যান্য অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডসহ ৪২,০৯,৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ এর প্রাথমিক সত্যতা পায় মর্মে প্রতিবেদন পেশ করে।
এদিকে জহির উদ্দিনের বিষয়ে আইডিআরএ বারংবার তার পাওনা বুজে দেয়ার জন্য অযাচিত চিঠি চালাচালি করছে যা মূলত শ্রম আদালত এর নিষ্পত্তির বিষয়।আবার মহানগর হাকিম এর আদালতও তার টাকা আত্মসাৎ এর সত্যতা পেয়েছে।সেখানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বৈপরীত্যমূলক পত্র প্রেরণের প্রেক্ষিতে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট অসামঞ্জস্য, অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন,একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে কোম্পানি আইন অনুযায়ী বরখাস্ত হওয়ার পরও তার কোম্পানিতে দেনা পাওনা নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ এই সেক্টরকে জনগণের আস্থাহীন করে তুলবে।
প্রগ্রেসিভ লাইফ থেকে বরখাস্ত করার পর থেকেই ব্যক্তিগত আক্রোশ:বশত কোন প্রকার দালিলিক প্রমাণ ব্যতীত কোম্পানির বিপক্ষে ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমে মিথ্যাচার করছেন যা অত্যন্ত ঘৃনিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইন বর্হিভূত।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মোঃ জহির উদ্দিন কর্তৃক কোম্পানির বিরুদ্ধে দয়েরকৃত মামলা সমূহ সর্বৈভ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমানিত হওয়ায় অধিকাংশ মামলা সমুহ আদালত কর্তৃক ভৎসনা সাপেক্ষে মামলাগুলো(সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-১৫৩/২০২৩ এবং সিআর মামলা নং-৩৮২/২০২৪) খারিজ করে দেন। আরও উল্লেখ্য যে, তিনি সর্বত্রই নিজেকে কোম্পানির সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দাবী করেন যা তার স্বঘোষিত এবং কোন প্রকার দালিলিক প্রমাণ নেই।










