বিশেষ সুবিধায়ও থামেনি দরপতন

অর্থনীতি প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দরপতনের মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা সাত কার্যদিবসে দরপতন হয়েছে। এতে সূচক কমেছে ৩২৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে সূচক। পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের ক্রয়-ক্ষমতা বাড়াতে সিকিউরিটিজ কেনার সীমা ৪০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫০ কোটি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার প্রথম দিনে লেনদেন সামান্য বাড়লেও থামেনি দরপতন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। এতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে সূচকের উত্থান স্থায়ী হয়নি। বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে ক্রমাগত নিম্নমুখী হতে থাকে সূচক, যা দিনের লেনেদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। তবে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে।

গতকাল ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৩৭১ দশমিক ১০ পয়েন্টে নেমে গেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯২৯ দশমিক ৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬১ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা লাভেলো আইসক্রিমের ২১ কোটি ২৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ২১ কোটি ১৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলোÑবেস্ট হোল্ডিংস, বিচ হ্যাচারি, ই-জেনারেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, আইসিবি এএমসিএল, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪৬ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪১টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।