চার কর্মদিবস ধরে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বাড়ছে। তবে একই সময়ে দর হারিয়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার। গতকাল সোমবারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রায় ৫৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে।
বড় ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিরূপ প্রভাব এটি। জ্বালানি সংকট মেটাতে সাপ্তাহিক কর্মদিন কমানোসহ নানা আলোচনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৩ তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০৪টির দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪১টির দর।
অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোর পরও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় সাড়ে ১৭ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ৬৬৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ঈদের ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে এ বাজারে ৪৬০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। পরের তিন কর্মদিবসে যথাক্রমে ৪৯২ কোটি, ৬০৪ কোটি এবং ৬৪৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিম্নমুখী ধারার মধ্যে এদিন তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং কাগজ ও ছাপাখানা খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১৮টির বাজারদর বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকৌশল খাতে ছিল মিশ্রধারা। ২০ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৭টির দর কমেছে। বস্ত্র খাতেও দর হারানো ও বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যার ব্যবধান ছিল কম।
এর বাইরে প্রায় সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। এর ধারায় ছিল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, সিরামিক এবং টেলিযোগাযোগ খাত। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২৩ কোম্পানির সবগুলোর দর কমায় সর্বাধিক আড়াই শতাংশ হারে দর হারিয়েছে। ব্যাংক খাতের ৩১ ব্যাংকের মধ্যে ২০টির দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র একটির। খাতটির গড় দরপতন হয়েছে সোয়া ১ শতাংশ।
অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৩০ পয়েন্টে নেমেছে। শুধু ব্যাংক খাতের দর পতনে সূচক ২৪ পয়েন্ট হারিয়েছে।
আলহাজ টেক্সটাইল ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে
এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজিএমে অনুমোদিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে না পারায় বস্ত্র খাতের আলহাজ টেক্সটাইল কোম্পানির শেয়ারকে ‘বি’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবনমন করা হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এজিএমে লভ্যাংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৩৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন সত্ত্বেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণ না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।











