আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাদকের সিন্ডিকেটের হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবার এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারেনা। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকে, তাকেও আমরা সতর্ক করছি। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবার এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারেনা। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকে, তাকেও আমরা সতর্ক করছি। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবার এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রস ফায়ার (বিচারবহির্ভূত হত্যা) হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুম ও ক্রস ফায়ার শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। গেল ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে, মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্রসফায়ার’। গুম করেছে, বিএনপি করার কারণে, জামায়াত করার কারণে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই এসব মামলার বাদী হয়েছিলেন পুলিশ। এই সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।
গুম ও ক্রসফায়ার আমরা শুন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছি বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনাদের এখানে একটা কেস স্টাডি এসেছে সারা বাংলাদেশের মধ্যে, মিরাজ শেখের কেস স্টাডিটা। একটা গুমের অভিযোগ এসেছে। এটাও আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর তদন্ত কাজ আমরা অব্যাহত রেখেছি। আমরা চাই না মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচার বঞ্চিত হোক। তারা এটার প্রতিবাদ করতে যেয়ে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর করেছিলেন। তার কারণে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, তারা গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই পরিবারকে আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের অধীনে আমরা সহযোগিতা দিয়েছি। মিরাজ শেখের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জামিন করিয়েছে। তার বোন এখানে উপস্থিত আছে।
মন্ত্রী বলেন, মামলা মামলার গতিতে চলবে। আমরা মানুষের পাশে সেবা দিতে চাই আইনি পরিকাঠামোর মধ্যে থেকে। জামিন দেয়া, না দেয়া আদালতে ব্যাপার। যেখানে যদি মব জাস্টিস করে, কোন জামিন নেয়া বা দেয়ার চেষ্টা করা হয়; বা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয় তার বিরুদ্ধেও আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাগেরহাটে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এখানে কয়েকটা হত্যা হয়েছে। আমাদের অবস্থান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য। তিনি যত শক্তিশালী হোন না কেন, বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, আর জনগণ বলবে খুন করলেও কিছু হয়না। পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি। আইন আইনের গতিতে চলবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আসম মাহবুবুল আলম, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।











