অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ

দেশের কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে ভারতীয় পেঁয়াজের আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) তথা আমদানির অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে আগের আমদানির অনুমতির বিপরীতে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আমদানি না হলে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বাড়বে বলে দাবি করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

সোমবার নতুন করে ভারতীয় পেঁয়াজের আইপি আমদানির অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

তবে পুরোনো আইপির বিপরীতে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১২ ট্রাকে ৩৪৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, দেশে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়। এর ফলে ৩ মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর থেকে হিলি স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়।

প্রথম দিকে আমদানির অনুমতির পরিমাণ কম হওয়ায় চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ কম আসছিল। পরে অনুমতির পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে সব বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, সোমবার সকাল থেকে সরকার আবারও পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সকাল থেকে আমদানির অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোনো আবেদন মঞ্জুর হয়নি।

যদিও এই সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা চিঠি ইস্যু করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে যে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনটি হলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ফলে যে দাম ৪০-৫০ টাকায় নেমেছিল, তা আবারও ৮০-৮৫ টাকায় পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে আমদানির অনুমতি বন্ধের খবরে বন্দরে কেজিতে দাম ২ টাকার মতো বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, “দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পণ্যটি আমদানির অনুমতি দিলে বেশ কিছুদিন ধরেই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এটি আমদানি হচ্ছে। সোমবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তবে এসব পেঁয়াজ আগের আমদানির অনুমতির বিপরীতে আসছে।”

তিনি আরও জানান, সোমবার সকাল থেকে নতুন করে কোনো পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। তবে আগে ইস্যু করা আমদানির অনুমতির বিপরীতে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটি আমদানি করা যাবে।

এসএইচ