বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার বৈধ অধিকার থাকলে ইরানের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের এই দ্বিচারিতাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন।
ইসলামাবাদে সফররত ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির নেপথ্য তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি কখনোই অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
শেহবাজ শরিফ সরাসরি বলেন, “আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে এই সমঝোতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই। এটি আলোচনার টেবিলে বা আলোচ্যসূচিতে কখনোই ছিল না এবং ইরানি পক্ষ এটি নিয়ে কোনো কথাও বলতে চায়নি।”
বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থবোধক নীতি থাকতে পারে না, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট দেশ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে আর ইরান তা পারবে না। এই ধরনের কপটতা কোনোভাবেই হজম করা সম্ভব নয়।”
তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে বৈশ্বিক কিছু কুচক্রী মহল এই শান্তি চুক্তিটিকে নস্যাৎ করার জন্য নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যেন একটি মহান জাতি হিসেবে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল ইরানের রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং বিগত সপ্তাহে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এই শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে সফল করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ায় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব এবং মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। আগামী সপ্তাহে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তিনি তেহরান সফর করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।











