শাহাদাত হোসেন:
কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর ১০৮ ধারা ভঙ্গ করায় এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর চার জন পরিচালকের পদ শূণ্য হয়েছে। তারা হলেন- বি এম ইউসুফ আলী, মোঃ জামাল উদ্দিন(প্রতিনিধি, লিবার্টি লিভিং লিঃ), ফৌজিয়া ইয়াছমিন (প্রতিনিধি, পারিজাত ডেভোলাপার্স লিঃ) ও পপুলার লাইফের কোম্পানি সেক্রেটারী মোস্তফা হেলাল কবির। তবে, পরিচালক পদ শূন্যতার বৈধতা নিয়ে একটি রীট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে।
সূত্র জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ব্যতিরেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর পরপর অনুষ্ঠিত তিনটি বোর্ড মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকায় কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ১০৮ ধারার (১) উপধারার (চ) অনুযায়ী উক্ত চারজন পরিচালকের পদ শূণ্য হয়। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এ উল্লেখ আছে- ‘‘১০৮।। পরিচালক পদে শূণ্যতাঃ (১) কোন পরিচালকের পদ শূণ্য হবে, যদি- (চ) পরিচালক পরিষদের অনুমতি ব্যতীত তিনি উক্ত পরিষদের পর পর তিনটি সভায় কিংবা ক্রমাগত তিন মাস ধরে পরিষদের সকল সভায়, তম্মধ্যে যে সময়কাল দীর্ঘতর সেই সময়ব্যাপী, অনুপস্থিত থাকেন‘’। জানা যায়, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর উপরোক্ত চারজন পরিচালক কোম্পানি আইনের এই শর্ত ভঙ্গ করায় তাদের পরিচালক পদ শূণ্য হয়।
এই চারজন এর মধ্যে একজন হচ্ছেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম ইউসুফ আলী। যিনি বীমা আইন-২০১০ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ভঙ্গ করে পপুলার লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায়, হয়েছিলেন এনআরবি ইসলামকি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর উদ্যোক্তা ও পরিচালক। কোন ব্যক্তি একাধিক বীমা কোম্পানির পরিচালনার সাথে যুক্ত হতে পারবেন না, বা কোন কোম্পানির পরিচালক একই সঙ্গে অন্য কোন বীমা কোম্পানিতে লাভজনক কোন পদে চাকরীতে যুক্ত থাকতে পারবেন না। বীমা আইনে এমন বিধান থাকলেও এ কাজটি করে আসছেন বিএম ইউসুফ আলী। বীমা আইন ২০১০ এর দ্বিতীয় অধ্যায় বীমাকারীর জন্য প্রযোজ্য বিধানাবলী ‘বীমা কোম্পানীর পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা’এর ধারা ৭৮ এ উল্লেখ রয়েছে- পরিচালক কর্তৃক চাকুরী করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ।’- আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা বীমাকারীর সংঘবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি বীমাকারীর চাকুরীতে উপদেষ্টা, নিরীক্ষক, পরামর্শক বা অন্য কোন লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকিলে তিনি উক্ত বীমাকারীর পরিচালক হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না।’
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ধারা ২৫ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা একাধিক ব্যাংক কোম্পানি বা একাধিক সাধারণ বিমা কোম্পানি বা একাধিক জীবনবিমা কোম্পানির পরিচালক থাকবেন না। এদিকে প্রস্তাবিত ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের ১৫ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক একই সময়ে অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির পরিচালক থাকবেন না বা তাঁর পক্ষে অন্য কাউকে অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ করতে পারবেন না।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রশাসন অনুবিভাগ কর্তৃক গত ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখ ইস্যূকৃত সূত্র নং-৫৩.০৩.০০০০.০০৯.১৬.০১৮.১৭.৭০ (১) বীমাকারীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ অনুমোদনের চেক লিস্টের ১১ নং কলামে উল্লেখ আছে‘কোন বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা উদ্যোক্তা নন এ মর্মে হলফনামা’দিতে হবে।
২০০৮ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের একটি রায়ের বলে তাকে তৎকালীণ বীমা অধিদপ্তর থেকে শর্তসাপেক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে নিয়োগের পত্র দেয়া হয়। সেই নিয়োগ পত্রের একটি শর্ত ছিল, (খ) তিনি অথবা তাঁর পরিবারভুক্ত কোন সদস্য অন্য কোন বীমাকারীর উদ্যোক্তা পরিচালক বা উপদেষ্টা হতে পারবেন না“। বি এম ইউসুফ আলী নিয়োগ অনুমোদনের সেই শর্ত ভঙ্গ করে পপুলার লাইফের এমডি পদে এবং অবৈধভাবে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর উদ্যোক্তা পরিচালক পদে ছিলেন। উল্লেখ্য, বীমা আইন লংঘন করে একই সঙ্গে পপুলার লাইফের এমডি ও এনআরবি ইসলামিক লাইফের পরিচালক বিএম ইউসুফ আলীকে অপসারনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না জানতে চেয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছে। এনআরবি ইসলামিক লাইফের জনৈক গ্রাহকের দায়েরকৃত একটি রীট পিটিশন (নং-৯৭৬৩-২০২৪) এর প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট এই রুল জারি করেন- যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে।
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এনআরবি ইসলামিক লাইফের পরিচালক বি এম ইউসুফ আলীকে এ প্রসঙ্গে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে আইডিআরএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য ইকোনোমিবাংলাকে বলেন, কোম্পানির পরিচালক থাকা বা না থাকা নিয়ে সৃষ্ট সংকট- আইনগত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বিষয়গুলোর প্রতি আইডিআরএ দৃষ্টি রাখছে- আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে- তা বাস্তবায়ন করবে আইডিআরএ।











