জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) উপেক্ষা করা হয়েছে দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা জনগণের সঙ্গে একটা প্রতারণা, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও লেখক এহসান মাহমুদের নতুন বই ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের কাজ ছিল জাতিকে ঐক্যের পথে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু যেখানে আমাদের ভিন্নমতকে (নোট অব ডিসেন্ট) লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা ঐকমত্য নয়, এটা বিভাজন সৃষ্টি।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ভিন্নমতগুলো বাদই দেওয়া হয়, তাহলে কমিশন গঠন করার অর্থ কী ছিল? এতে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশের রাজনীতিতে নতুন ঐক্যের সূচনা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিভক্তি ক্রমে বেড়েই চলছে।’
যত সময় যাচ্ছে, ততই আমরা দেখছি সমাজ ও রাজনীতি আরও বিভক্ত হচ্ছে। একে অপরকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতা চলছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এটা কারা করছে, কেন করছে, সবাই জানে বলেও জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। তখন অনেকে ভেবেছিল বিএনপি ক্ষমতার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। কিন্তু আজ প্রমাণ হচ্ছে, নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় যারা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি, তারাই এখন শক্তিশালী হচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা তারা চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সংকটের মূল সমাধান শুধু একটি সত্যিকারের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে সাংবিধানিক পথেই সংস্কার আনবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল সতর্ক করেন, আপনি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন যে, সংস্কার সম্পন্ন করে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেবেন। যদি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুতি ঘটে, তার পূর্ণ দায় আপনাকেই নিতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই বুঝতে হবে এই সময়টা বিভক্তির নয়, ঐক্যের।
ন্যূনতম বিষয়গুলোতে ঐকমত্য তৈরি করে জাতীয় স্বার্থে একসাথে কাজ করার এটাই সুযোগ। এই সুযোগ হারালে ইতিহাস ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর একদিন আগে ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা জমা দেয়। ওই প্রস্তাবনায় সংবিধান সংস্কারের অংশ গণভোটের মাধ্যমে এবং নয়টি সংস্কার নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
বিএনপি দাবি করেছে, কমিশনের প্রতিবেদনে তাদের দেওয়া আপত্তি বা বিকল্প প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে বিএনপি কমিশনের প্রস্তাবকে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক মনে করছে। অন্যদিকে কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে এ বিরোধ নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।











