কুমিল্লা অঞ্চলকে দেশের একটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা এবং সেখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার বিকেলে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এ আশ্বাস দেন।
চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে সংক্ষিপ্ত এক পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ তাকে স্বাগত জানান।
সমাবেশস্থলজুড়ে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয় জনতা ও নেতাকর্মীরা।
জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান ও দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা যদি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ তা বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি সরকার সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেয় এবং পর্যায়ক্রমে সব যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই বিএনপির শক্তির মূল উৎস। জনগণের শক্তিকে ভিত্তি করেই সরকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কুমিল্লা অঞ্চলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করা হবে। সেখানে কুমিল্লায় দ্রুত একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, স্থান নির্ধারণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বরুড়া ও সমগ্র কুমিল্লা জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংক্ষিপ্ত পথসভাটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সভায় সরকারের কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি কুমিল্লার জনগণের পক্ষ থেকে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন-
কুমিল্লাকে দ্রুত একটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা এবং এ অঞ্চলে একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা।
এই প্রস্তাবের পর সভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষ করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে সমর্থন জানান। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে দাবি দুটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি দীর্ঘদিনের। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
ভৌগোলিক ও যোগাযোগ সুবিধা:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকায় কুমিল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স:
প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ আসে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন:
কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের জনসংখ্যা ও আয়তন অনেক বিদ্যমান বিভাগের চেয়েও বেশি। ফলে নতুন বিভাগ গঠন প্রশাসনিক সেবা আরও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা
কুমিল্লা অঞ্চল কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ। শাকসবজি, ধান ও মৎস্য উৎপাদনে এ অঞ্চলের অবদান উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কুমিল্লাতেই অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে।
একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে-
- আধুনিক কৃষি গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে
- জলবায়ু পরিবর্তন উপযোগী কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন সম্ভব হবে
- স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সহজে কৃষি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে
- কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে
- জনমনে উচ্ছ্বাস
ঘোষণার পর বরুড়া ও পুরো কুমিল্লা জেলায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটতে পারে এবং নতুন উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার পরবর্তী গন্তব্য চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিদায়কালে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।











