মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ৬ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে যত সংখ্যক চীনা শিক্ষার্থী আছে সে তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চলতি বছরই তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।
মঙ্গলবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের যখন চীন সতর্ক করছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রশাসনের সুর এমন নরম হলো।
সোমবার হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্পকে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ বছরই তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।
ট্রাম্প বলেন, আপনারা জানেন আমরা চীনের কাছে থেকে শুল্ক ও অন্যান্য কারণে প্রচুর অর্থ পাচ্ছি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাইডেনের সময়ের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে এটি অনেক ভালো সম্পর্ক।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ বলছে, শিক্ষার্থী প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের ঘোষণা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। কেননা, চীনের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণার মধ্যেই তিনি এমন মনোভাব দেখালেন। এ ছাড়া, চীনা শিক্ষার্থীদের ওপরও বিধিনিষেধ ছিল। এ অবস্থায় ট্রাম্পের এমন ঘোষণা দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত।
স্থানীয় সময় সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চীনা শিক্ষার্থীদের আমরা অনুমতি দেব না, এমন অনেক কথা শুনেছি। আমরা তাদের আসতে দেব। ৬ লাখ শিক্ষার্থী খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখব।’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চীনা শিক্ষার্থী আছেন প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। ফক্স নিউজ বলছে, চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের ঘোষণা এমন সময় এলো যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছে। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। এর জবাবে ১২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় বেইজিং। তবে গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনার মাধ্যমে অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপরও চীনের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ট্রাম্প।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, এ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। বুদ্ধিমত্তার জায়গায় চীন বেশ এগিয়েছে।’
গত মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনা নাগরিকদের ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে যারা কমিউনিস্ট পার্টি ও সংবেদনশীল গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত জুনে প্রক্রিয়া আবার শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সময় বলা হয়, সব আবেদনকারীকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো প্রকাশ করতে হবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য এটির প্রয়োজন হবে। মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা নীতির প্রতি আবেদনকারীদের বিদ্বেষমূলক কোনো কার্যক্রম আছে কি না তা যাচাই করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
গত সপ্তাহে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, আইন লঙ্ঘন ও মেয়াদ না থাকায় বিভিন্ন দেশের ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।











