দেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য সুনির্দিষ্ট জনবল কাঠামোর ঘোষণা দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী-
প্রতি কেন্দ্রে সদস্য: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৩ জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
অস্ত্রধারী ও সাধারণ সদস্য: এই ১৩ জনের মধ্যে ৩ জন থাকবেন অস্ত্রধারী সদস্য। এছাড়া ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন।
বিশেষ দায়িত্ব: প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়োজিত ৩ জন অস্ত্রধারী সদস্যের মধ্য থেকে একজন সদস্য নির্বাচন চলাকালীন সময়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করবেন, যাতে তাৎক্ষণিক যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নিয়োজিত সদস্যদের পাশাপাশি বাইরে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সারাদেশে মোট ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন টিম ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন থাকবে। যেকোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে এই মোবাইল টিমগুলো দ্রুততম সময়ে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।
নবীন আনসার সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কোনো অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখা। কোনো বিশেষ পক্ষ বা প্রার্থীর প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ প্রদর্শন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আনসার সদস্যদের দেশের ইতিহাস ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই সন্ধিক্ষণে আইনের শাসন রক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত থাকা এবং পক্ষপাতহীন সেবা দেওয়াই আপনাদের পরম ব্রত হওয়া উচিত।
গাজীপুরের ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই সমাপনী কুচকাওয়াজে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মহাপরিচালক নিশ্চিত করেন যে, বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই ঘোষণাটি মূলত একটি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের পথে প্রশাসনিক প্রস্তুতির বড় প্রতিফলন। বিপুলসংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে সরকার ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, যাতে তারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এসএইচ











