ন্যুনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা ঘোষনা দাবি

জাতীয় ভিত্তিক গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন করে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।
জাতীয় ভিত্তিক গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন করে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

বিষেশ প্রতিনিধী:

অবিলম্বে ন্যুনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা ঘোষনা এবং প্রতিটি কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে
২৬ মে ২০২৩, শুক্রবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে’র উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ এবং লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন যে, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির ফলে বর্তমানে প্রাপ্ত মজুরিতে কোনোভাবেই শ্রমিকরা সংসার চালাতে পারছেন না। উৎপাদন এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী শ্রমিকদেরকে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। মালিকরা কখনোই শ্রমিকদের দুঃখ কষ্টকে বিবেচনায় নেয়নি এখনও তা নিচ্ছেন না। কেননা জীবনধারণ উপযোগী ন্যুনতম মজুরি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন, জাতিসংঘের পুষ্টিমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্ঠিবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট এর হিসাব এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ এ্যালাইন্স সহ বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাই মজুরি বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ সরকার বা মালিক কারো দিক থেকেই পরিলক্ষিত নয়। শ্রমিকদের আন্দলোন এর চাপে ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে অনিশ্চিত, মজুরি পুন:নির্ধারণ প্রক্রিয়ার শুরুতেই মজুরি বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়োগে শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় মজুরি নির্ধারণে শ্রমিকদের আশার প্রতিফলন না হওয়ার আশংকা এবং আস্থাহীনতা তৈরী হয়েছে।
শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু অতীব জরুরি। কিন্তু তাও করা হচ্ছে না। এই সমাবেশ ন্যুনতম ২৩ হাজার টাকা ঘোষনা ও পিসরেটসহ সকল শ্রমিকদের একই হারে মজুরি বৃদ্ধি এবং রেশনিং এর জন্য দেশব্যাপী প্রতিটি কারখানায় আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, উত্তরার ইন্ট্রাকো ডিজাইন লিমিটেড ও ইন্টারকো ফ্যাশন লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জ এর মুন লাক্স এর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হচ্ছেনা, মালিক বারবার চুক্তি অমান্য করার পরেও মালিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকনেতা ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে’র সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব মজনু সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু, উত্তরা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক এম এ শাহীন, গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার, সাভার আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাইফুল্লা আল মামুন, মিরপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাজা শ্রমিকনেতা জাহানারা ইমাম, আমিনুর ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ, মোহাম্মদ রাজা, সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা ইকবাল হোসেন।
অতিসত্ত্বর মজুরি বৃদ্ধি ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুতে কোনো গাফিলতি দেখলে জাতীয় ভিত্তিক গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন করে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।