রুবায়া খনি ধসে শোকাতুর কঙ্গো, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৭

আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রুবায়া এলাকায় একটি কোলটান খনিতে গত বুধবার সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ২২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও অনেককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে যাদের চিকিৎসা চলছে নিকটস্থ হাসপাতালে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কারণ এখনো অনেক শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাদেশিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা জানিয়েছেন কমা নিহতদের মধ্যে কেবল পুরুষ খনি শ্রমিকরাই নন বরং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এবং স্থানীয় বাজারের নারী ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। বর্ষার মৌসুমে মাটি অত্যন্ত নরম হয়ে যাওয়ায় খনির গর্তের চারপাশ ধসে পড়ে এই বিশাল প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

রুবায়া খনিটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট কোলটান সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশ আসে এই এলাকা থেকে। এই কোলটান থেকেই ট্যান্টালাম নামক বিরল ধাতু নিষ্কাশন করা হয় যা আধুনিক স্মার্টফোন কমা ল্যাপটপ কমা মহাকাশ গবেষণার যন্ত্রপাতি এবং গ্যাস টারবাইন তৈরির অবিচ্ছেদ্য উপাদান। অথচ এই অতিমূল্যবান খনিজ আহরণে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রতিদিন মাত্র কয়েক ডলারের বিনিময়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে থাকেন। ২০২৪ সাল থেকে রুবায়া খনি এলাকাটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম তেইশ এর দখলে রয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে কমা বিদ্রোহীরা এই খনি থেকে প্রাপ্ত অর্থ তাদের সামরিক তৎপরতায় ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে কমা প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা এই গোষ্ঠীকে সহায়তা দিচ্ছে কমা যদিও কিগালি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। গত বছর এক ঝটিকা অভিযানে বিদ্রোহীরা রাজধানী কিনশাসার সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এই খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলো দখল করে নেয়।

দুর্ঘটনার পর উত্তর কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী নিযুক্ত গভর্নর রুবায়া এলাকায় সব ধরনের খনি খনন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। যারা খনির কাছাকাছি অস্থায়ী বসতি তৈরি করেছিলেন তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত প্রায় ২০ জনকে গুমার উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া কোলটান খনি কমপ্লেক্সে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিশাল ভূমিধসে এই নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

কঙ্গোর এই বিপর্যয় আবারও বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পের নেপথ্যে থাকা সাধারণ শ্রমিকদের মানবেতর জীবন এবং অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রের চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্বের ১৫ শতাংশ কোলটান জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মাঝে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মেলবন্ধনে রুবায়া এখন এক শোকাতুর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

এসএইচ