তিন দিন বিরতির পর দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও ভরিতে ৭০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি। বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধিও দেশের বাজারে দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
সোনার দাম নির্ধারণে সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের বিষয়টি জানানো হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।
দাম বাড়ানোর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।
এর আগে গত শনিবার দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তিন দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো।
এদিকে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ৮৪০ টাকা।
বিশ্ববাজারেও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩২ ডলার বেড়েছে। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ৩৬২ ডলার। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর সোনার দামে যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে কিছুটা কমলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে আবারও দাম ৫ হাজার ডলারের ওপরে ওঠে।
যুদ্ধবিরতি হলে দাম নেমে আসে ৪ হাজার ডলারের নিচে। এরপর প্রায় দুই মাস বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের আশপাশে অবস্থান করলেও বর্তমানে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ইকোনমি/এসএইচ











