নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে। এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে।

সরকারের আর্থিক সামর্থ্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে সরকার দুই অর্থবছরে (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের প্রাধান্য দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অংশ আগে কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে প্রদান করা হবে এবং বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।

অন্যদিকে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ (ওআরওপি) ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। তবে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে তা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকার ওপরে নিট পেনশনপ্রাপকদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।

এ ছাড়া এই পে-স্কেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালু করা হয়েছে। ৫ নম্বর গ্রেডের পরিবর্তে এবার থেকে সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মোবাইল ভাতা।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সামরিক ও অসামরিক প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সুবিধা পাবেন। এতে সরকারের বছরে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে, যা বাজেটের আওতায় সংস্থান করা হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মচারীদের জন্য গঠিত পৃথক কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের স্কেলও একইভাবে কার্যকর হবে। অর্থ বিভাগ খুব দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে।