তারেক রহমান: আমরা সবাই মিলে একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বীরের বেশে স্বদেশে ফিরে জাতির উদ্দেশে নিজের স্বপ্নের কথা জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে।

বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে জনসমুদ্র পেরিয়ে লাল-সবুজ রঙে সজ্জিত বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিট সমাবেশস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। ৩টা ৫১ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মঞ্চে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনের মাধ্যমে তিনি তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ভাষণ শুরু করেন।

তারেক রহমান তাঁর ভাষণে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ৭১-এ এ দেশের মানুষ যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪-এ ঠিক একইভাবে সব স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে। এখন সময় এসেছে কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার।

একটি নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যা একজন মা স্বপ্ন দেখেন। পাহাড়-সমতল কিংবা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, সেই নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে। বিখ্যাত মার্কিন নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উক্তির আদলে তিনি ঘোষণা করেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি তিনবার ‘আমরা শান্তি চাই’ উচ্চারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংবর্ধনা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হন।