ট্রাম্পের ঘোষণা: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের লিন্ডন বি. জনসন কক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বহাল থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, এই নমনীয়তা শর্তহীন নয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষ সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তেহরানকে একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। অস্পষ্ট বা খণ্ডিত দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলতি সপ্তাহের শেষে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। আলোচনার সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে ইসলামাবাদের নাম উঠে এলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন এবং ওয়াশিংটনেই অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ইরান এখনও আলোচনা সভায় প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌশলগতভাবে সময় অর্জন করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন-মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কমানোর প্রচেষ্টা, একদিকে আলোচনা অন্যদিকে কঠোর অবরোধ বজায় রেখে চাপ প্রয়োগ, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমানো,আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ এই সিদ্ধান্তকে সতর্ক আশাবাদের সঙ্গে দেখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি একটি গ্রহণযোগ্য ও সুসংগঠিত প্রস্তাব দিতে না পারে, তাহলে এই সাময়িক স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণা আপাতত যুদ্ধের আশঙ্কা কমালেও স্থায়ী সমাধান এখনও অনিশ্চিত। এখন দৃষ্টি তেহরানের দিকে, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নাকি নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হবে।