একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছেন, অন্যদিকে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার নীতিতে কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এই চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বুধবারের নতুন পদক্ষেপকে সেই ধারাবাহিক নীতির সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ দফতরের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর জানায়, ইরান, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মোট ১৪ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উড়োজাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরান সরকারের হয়ে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পরিবহনের কাজে যুক্ত ছিল। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত বা দেশটি দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত অর্ধেক বা তার বেশি মালিকানা যদি নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের হাতে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানও একইভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব নেটওয়ার্ক ইরানের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুনর্গঠনে কাজ করছিল। এর আগে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এই সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।
এই পুরো উদ্যোগকে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে ইরানের সংযোগ আরও সীমিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এমন চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
সূত্র: বিবিসি











