যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ জারি রাখবে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চুক্তি না করলে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনের প্রধান আরও বলেন, ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তবে তাদের কেবল বন্দর অবরোধই নয় বরং বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ করা হবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গত সোমবার ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। এর আওতায় দেশটির বন্দর ব্যবহার করা জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন বলেন, কেউ এই অবরোধ অমান্য করলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। এখন পর্যন্ত অবরোধ অমান্য করা ১৩টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ড্যান কেইন এমন দাবি করলেও জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংয়ের সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অবরোধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই দুটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। লাইবেরিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার দেশ কোমোরোসের পতাকাবাহী জাহাজগুলো ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।
প্রায় এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইরান সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন পিট হেগসেথ। এ নিয়ে ইরানি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সামরিক সরঞ্জাম কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ধ্বংসস্তূপ থেকে অবশিষ্ট লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুঁজে বের করছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা আপনাদের আর নেই। আপনাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পুরোপুরি অচল।’
পিট হেগসেথ এর আগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু এর কয়েকদিন পরই একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করে তেহরান। সেটির পাইলট ও ক্রু উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন অভিযানে যাওয়া অন্তত তিনটি বিমান বিধ্বস্তের দাবি করেছিল ইরান।
ইসরায়েলের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাদের নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। এটি হবে আরও বেশি বেদনাদায়ক।
ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘ইরান আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একটি পথ হলো- যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করা। আর অন্য পথটি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যদি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেয়, তবে তারা দ্রুতই যন্ত্রণাদায়ক হামলার অনুভূতি টের পাবে।
দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য মধ্যস্থতাকারীরা যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখন একইদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলার হুমকি এলো। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে। দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা শুরু হবে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোস্টে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য সম্ভাব্য দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে বেরিয়েছেন। সেনাপ্রধান অসিম মুনির তেহরান সফর করছেন।
এএফপি











