ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার আগে কয়েক দিন ধরে ভিকটিমের চলাচল ও রুটিন নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, হামলাকারীরা তার গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পনা সাজায়।
ঘটনাটি ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকার দোহারিয়া অঞ্চলে। রাতের দিকে গাড়ি চালিয়ে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। তদন্তকারীদের ধারণা, একাধিক ব্যক্তি সমন্বিতভাবে এই হামলায় অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্তসূত্র বলছে, রাস্তার একটি নির্দিষ্ট অংশে দুটি গাড়ি ব্যবহার করে পথ আটকানো হয়। এরপর কাছ থেকে গুলি চালানো হয় লক্ষ্য করে। হামলার ধরন দেখে পুলিশ এটিকে ‘প্রফেশনাল কিলিং মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার দিন তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ব্যক্তিগত গাড়িতে ফিরছিলেন। পথে একটি নির্দিষ্ট স্থানে গাড়িটি থামানোর পর হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষ এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতা বলে দাবি করলেও তদন্তকারী সংস্থা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি আসতে পারে।











