শাহাদাত হোসেন:
ব্যবস্থাপনা খাতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ খরচ ও নানাবিধ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি বিরুদ্ধে । এসব অনিয়মের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হোল্ডার। একইসঙ্গে কোম্পানিটির ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে আসে চার্টার্ড লাইফের অতিরিক্ত ব্যয়ের ভয়াবহ চিত্র। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তদন্তে ৮ কোটি ৭৮ লাখ ১৪ হাজার ৭৮০ টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করা হয়। এই ‘অতিরিক্ত ব্যয়‘ বীমা আইন, ২০১০ এর ৬২ ধারা এবং বিধিমালা লঙ্ঘন বলে জানায় আইডিআরএ।
গত ৯ অক্টোবর চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে পাঠানো আইডিআরএ’র এক চিঠিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১৩০ ধারায় এই টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। অপরদিকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কথা স্বীকার করে রিভিউ আবেদন করে চার্টাড লাইফ। আইডিআরএ দেয়া কোম্পানির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় জরিমানা বহাল রাখে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদেনে অতিরিক্ত ব্যয়ের এই চিত্র উঠে আসলে ৫ লাখ টাকা জরিমানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করলেও মাত্র ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেই কোম্পানীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অথচ অতিরিক্ত ব্যয়ের নামে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে কিনা- তার অধিকতর তদন্তের নির্দেশনা না দিয়ে জরিমানা আরোপ করেই অবৈধ ব্যয়ের অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয় কোম্পানিকে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও সামান্য কিছু জরিমানার ফলে আইন লংঘন কিংবা লুটপাটে উৎসাহী হচ্ছে কোম্পানীগুলো। আইডিআরএর কঠোর নিয়ন্ত্রনের অভাব কিংবা আইনী দূর্বলতার সুযোগ কে কাজে লাগাচ্ছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চার্টার্ড লাইফের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদ উল্ল্যাহ বলেন, চার্টার্ড লাইফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় সম্পর্কে কোম্পানি সেক্রেটারীর সাথে কথা বলেন। তিনি আপনাকে বলতে পারবেন কোন খাতে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে।
চার্টার্ড লাইফের কোম্পানী সেক্রেটারী জি, এম রাশেদ ইকোনমিবাংলাকে বলেন, যে খাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হয়েছে তা আমরা লিখিতভাবে আইডিআরএ জানিয়েছি। আইডিআরএ আমাদের জরিমানা করেছে। জরিমানা মওকূপ করার জন্য আমরা রিভিউ আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে আইডিআরএর পরামর্শক (মিডিয়া এবং যোগাযোগ) সাইফুন্নাহার সুমি ইকোনমিবাংলাকে বলেন, বীমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী কোন কোম্পানী হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে এর বেশী কিছু করতে পারেনা আইডিআরএ। জরিামানার পাশাপাশি মিটিং ডেকে কোম্পানীকে সর্তক করতে পারে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইন লংঘন করে ব্যবসা করছে চার্টাড লাইফ ইন্সুরেন্স।
দীর্ঘ দিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক অস্বচ্ছতায় ভুগছে এই জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান। প্রথম পর্বে চার্টাড লাইফের যে জরিমানার চিত্র উঠে এসেছে- তা কেবল এক ভয়াবহ বাস্তবতার সূচনা মাত্র।
চার্টাড নিয়ে ৪ পর্বের ধারাবাহিক সংবাদের দ্বিতীয় পর্বে আসছে ‘অবৈধ’ ভারপ্রাপ্ত সিইও এমদাদ উল্লাহর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
– প্রিয় পাঠক, আপনার কাছেও যদি প্রতিষ্ঠানটির কোনো তথ্য থাকে, আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
এইচএস











