৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিল সরকার

ফাইল ছবি

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত সচল রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি বিদেশি কোম্পানি থেকে সমানভাবে এই ডিজেল সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি কোম্পানি থেকে ১ লাখ টন করে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইয়ার এনার্জি এজি, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনাল।

সাধারণত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। তবে এবার জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, গণখাতে ক্রয় আইন ২০০৬ ও ক্রয় বিধি ২০০৮-এর বিশেষ বিধানের আওতায় এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বৈধ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বিপিসি তাদের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ ‘জিটুজি’ (সরকার টু সরকার) এবং বাকি ৫০ শতাংশ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে এসে দ্রুত জ্বালানি নিশ্চিত করার পথ বেছে নিয়েছে সরকার।

আমদানিকৃত ডিজেল মূলত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-তে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূরাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি মজুদ স্থিতিশীল রাখতেই সরকার এই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।