সাক্ষাৎকারে মো. জালালুল আজিম: ‘‘বীমা খাতে জনসচেতনতার ঘাটতি ও আস্থার সংকট রয়েছে’’

মো. জালালুল আজিম। দায়িত্ব পালন করছেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি প্রকৌশলে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি লাইফ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো (এফএলএমআই) এবং প্রফেশনাল কাস্টমার সার্ভিসেস (পিসিএস) ডিপ্লোমাধারী।

জালালুল আজিম তার কর্মজীবন শুরু করেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে। ১০তম বিসিএস (রেলওয়ে) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েতেও কাজ করেছেন। আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে (বর্তমান মেটলাইফ) যোগদানের মাধ্যমে তিনি বীমা পেশায় আসেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্প্রতি দেশের বীমা খাত ও কোম্পানির নানা কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেছেন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ইকোনমিবাংলার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন – শাহাদাত হোসেন।

ইকোনমিবাংলা: কেমন আছেন?

মো.জালালুল আজিম: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। ব্যক্তিগতভাবে ভালো থাকার পাশাপাশি পেশাগতভাবে একটি চ্যালেঞ্জিং কিন্তু সম্ভাবনাময় খাতে কাজ করছি এটা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। বীমা খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারাটা আমার কাছে দায়িত্ব এবং গর্ব দুটোই।

ইকোনমিবাংলা: কেমন চলছে দেশের বীমা খাত?

মো.জালালুল আজিম: বাংলাদেশের বীমা খাত বর্তমানে একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে এবং নতুন পণ্য আসছে, অন্যদিকে এখনো জনসচেতনতার ঘাটতি ও আস্থার সংকট রয়ে গেছে। উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের বীমা অংশগ্রহণ অনেক কম। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা বেড়েছে এবং বেসরকারি খাতও নতুনভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

ইকোনমিবাংলা: বীমা খাতের উন্নয়নে কি ভূমিকা রাখছে প্রগতি লাইফ?

মো. জালালুল আজিম: প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি শুরু থেকেই গ্রাহক আস্থা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আমরা সময়মতো ক্লেইম পরিশোধ, পণ্যের স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নতুন স্বাস্থ্যবীমা ও সেভিংস-ভিত্তিক পণ্য বাজারে এনে গ্রাহকের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখছি। আমরা বিশ্বাস করি একটি কোম্পানি যদি সঠিকভাবে কাজ করে, সেটি পুরো খাতের ইমেজ উন্নত করতে সহায়ক হয়।

ইকোনমিবাংলা: আপনার প্রতিষ্ঠান কি কি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে?

মো. জালালুল আজিম: আমাদের মূল ফোকাস তিনটি ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন, পণ্য উদ্ভাবন এবং ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল সম্প্রসারণ। আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পলিসি ক্রয়, প্রিমিয়াম পেমেন্ট এবং ক্লেইম প্রসেস আরো সহজ করার জন্য কাজ করছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাইক্রো ইন্স্যুরেন্সের মতো পণ্যে জোর দিচ্ছি, যাতে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী সমাধান দেওয়া যায়। ইতোমধ্যে দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ-এর কভার পেইজে প্রগতি লাইফ এর বীমা পলিসি ক্রয়ের সুবিধা যুক্ত হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য বীমাসেবা গ্রহণকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করেছে।

পাশাপাশি আমরা স্বাস্থ্য বীমাসহ গ্রাহকের প্রয়োজনভিত্তিক নতুন নতুন বীমা পরিকল্প চালুর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে বীমার আওতায় আসতে পারেন। এছাড়া ব্যাংকান্সুরেন্স -কে আমরা ভবিষ্যতের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মাধ্যম হিসেবে দেখছি, যা বীমা সেবাকে আরও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইকোনমিবাংলা: প্রগতি অন্য কোম্পানির চেয়ে ব্যতিক্রম কেন এবং আপনাদের ব্যবসা পলিসি কী?

মো. জালালুল আজিম: আমরা দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলামুক্তভাবে বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সারাদেশে বৈধ বীমা দাবি পরিশোধ না করার একটি অভিযোগ নেই, যা গ্রাহকসেবা, দায়বদ্ধতা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ বহন করে।

এই বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রগতিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ব্যতিক্রম করেছে। আমরা ব্যবসাকে শুধু প্রিমিয়াম সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি না; বরং গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী আস্থা, নিরাপত্তা এবং সম্পর্ক গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমাদের ব্যবসা নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে “Trust, Transparency and Timely service”।

আমরা মনে করি, বীমা খাতে সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থা ধরে রাখা। তাই পরিষ্কার শর্তাবলী, স্বচ্ছ কার্যক্রম, দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তি এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে আমরা একটি নির্ভরযোগ্য ও মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তায় বিশ্বস্ত অংশীদার হয়ে ওঠা।

ইকোনমিবাংলা: প্রগতি লাইফের কতটি শাখা আছে এবং গ্রাহক সংখ্যা কত?

মো. জালালুল আজিম: বর্তমানে আমরা সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি, যেখানে প্রায় ৩৫০টি  এজেন্সি, সার্ভিস সেল ও  সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ (গ্রুপ বীমাসহ), যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ভবিষ্যতে আরও গ্রামীণ পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।

ইকোনমিবাংলা: বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্সের যাত্রা কীভাবে শুরু হলো?

মো. জালালুল আজিম: বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ “Bank insurance Corporate Agent Guidelines–2023” এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত “Bank insurance Guidelines” নীতিমালা জারি করে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের ব্যাংকগুলো কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে তাদের গ্রাহকদের কাছে বীমা পণ্য বিপণনের সুযোগ পায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমে প্রায় ১৩টি ব্যাংক এবং ৯টি জীবন ও ৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের প্রগতি লাইফ সহ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি এবং দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো ব্যাংকাস্যুরেন্সকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। এই মডেলের মাধ্যমে গ্রাহকরা এক জায়গা থেকেই ব্যাংকিং ও বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, যা যেমন সুবিধাজনক, তেমনি বীমা খাতে দীর্ঘদিনের আস্থার ঘাটতি কমাতেও সহায়ক।

সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ এবং গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাংকাস্যুরেন্স ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বীমা শিল্পে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

ইকোনমিবাংলা: ব্যাংকাস্যুরেন্সের মাধ্যমে বিমা খাত কতটুকু ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন?

মো. জালালুল আজিম: আমি মনে করি এটি বীমা খাতের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। কারণ ব্যাংকের গ্রাহকভিত্তি অনেক বড় এবং তাদের প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলক বেশি। এই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে বীমা পণ্য সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে। ফলে বীমা অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ইকোনমিবাংলা: ব্যাংকাস্যুরেন্সের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিধা কী?

মো. জালালুল আজিম: গ্রাহকরা এক জায়গা থেকেই ব্যাংকিং ও বীমা দুই ধরনের সেবা পাবেন। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। এছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা নেওয়ার ফলে গ্রাহকের মধ্যে একটি অতিরিক্ত বিশ্বাস তৈরি হয়, যা এই খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইকোনমিবাংলা: এতে করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও ব্যাংক উভয়ই কীভাবে লাভবান হবে?

মো. জালালুল আজিম: বীমা কোম্পানিগুলো নতুন গ্রাহক পাবে কম খরচে, আর ব্যাংকগুলো পাবে কমিশন-ভিত্তিক অতিরিক্ত আয়। একই সাথে গ্রাহকের সাথে ব্যাংকের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। ফলে এটি একটি টেকসই বিজনেস মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ইকোনমিবাংলা: তামাদি হার নিয়ন্ত্রণের উপায় কি?

মো. জালালুল আজিম: তামাদি হার বা Laps-Rate নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু পলিসি বিক্রি নয়, বরং গ্রাহকের প্রকৃত প্রয়োজন, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ বিবেচনায় রেখে সঠিক পলিসি নির্বাচন নিশ্চিত করা। একজন গ্রাহকের আয়, জীবনযাত্রার মান এবং প্রিমিয়াম পরিশোধের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বীমা পরিকল্পনা দিতে না পারলে পলিসি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। প্রিমিয়াম অতিরিক্ত বেশি হলে গ্রাহকের পক্ষে তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, আবার বীমা সুবিধা যদি প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম হয়, তাহলে গ্রাহক তার কাক্সিক্ষত মূল্য খুঁজে পান না।

এ কারণে আমাদের ফিল্ড ফোর্সকে শুধু বিক্রয়কর্মী হিসেবে নয়, বরং আর্থিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে হবে যারা গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত বীমা সমাধান প্রদান করবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রয়োজন নির্ভর পলিসি বিক্রয়ই তামাদি হার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।

একই সঙ্গে After sales service অত্যন্ত জরুরি। পলিসি গ্রহণের পর গ্রাহকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রিমিয়াম রিমাইন্ডার, পলিসি স্ট্যাটাস আপডেট, সহজ প্রিমিয়াম পরিশোধ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সার্ভিস যেমন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন পোর্টাল, এসএমএস/নোটিফিকেশন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজ প্রিমিয়াম জমা এসব ব্যবস্থা গ্রাহকের জন্য বীমা পরিচালনাকে আরও সুবিধাজনক করে তোলে।

ইকোনমিবাংলা: বিমা খাতে ডিজিটালাইজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আপনি কিভাবে দেখছেন?

মো. জালালুল আজিম: ডিজিটালাইজেশন ছাড়া ভবিষ্যতের বীমা খাত কল্পনা করা যায় না। এটি শুধু কার্যক্রম সহজ করে না, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। আমরা ইতোমধ্যে অনলাইন সার্ভিস, মোবাইল অ্যাপ এবং অটোমেটেড ক্লেইম প্রসেসিং চালু করেছি। গ্রাহকরা তাদের প্রিমিয়াম ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে জমা প্রদান করতে পারছে।

ইকোনমিবাংলা: কিছু কোম্পানি যথাসময়ে বিমা দাবি পরিশোধ করছে না! এটার সহজ সমাধান কি?

মো. জালালুল আজিম: এই সমস্যার মূল সমাধান হলো দৃঢ় রেগুলেটরি নজরদারি এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা। কোম্পানিগুলোকে তাদের দায়বদ্ধতা বুঝতে হবে। পাশাপাশি ক্লেইম প্রসেসকে প্রযুক্তিনির্ভর করলে সময়ক্ষেপণ অনেকটাই কমে যাবে।

ইকোনমিবাংলা: গ্রাহক নিরাপত্তায় প্রগতি লাইফ কি পদক্ষেপ নিয়েছে?

মো. জালালুল আজিম: গ্রাহকের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করাকে প্রগতি লাইফ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন এবং দ্রুত ও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছি। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের তথ্য অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে।

এছাড়াও, প্রগতি লাইফ একটি  ISO সার্টিফাইড কোম্পানি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সেবা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো অনুসরণ করে। আমাদের অভ্যন্তরীণ অডিট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা যায়।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো গ্রাহকের আস্থা। তাই গ্রাহক যেন নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত সেবা পান সেটি নিশ্চিত করতে প্রগতি লাইফ সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইকোনমিবাংলা: বীমা খাতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অভাব রোধে প্রগতি লাইফ কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

মো. জালালুল আজিম: বাংলাদেশের বীমা খাতে দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। এ লক্ষ্যেই আমাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রগতি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বীমা খাতে আকৃষ্ট করতে ইন্টার্নশিপ, সচেতনতামূলক সেমিনার এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম বীমাকে শুধু একটি চাকরি নয়, বরং মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে দেখুক।

ইকোনমিবাংলা: কিভাবে বীমা খাতে আসলেন? জীবন বীমা সেক্টরকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন কেন?

মো. জালালুল আজিম: আমি সবসময় এমন একটি পেশায় কাজ করতে চেয়েছি, যেখানে মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখা যায় এবং সমাজের জন্য বাস্তব অবদান রাখা সম্ভব। কর্মজীবনের শুরুতে আমি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ-এ কর্মরত ছিলাম। এছাড়াও আমি ১০ম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে দায়িত্ব পালন করেছি।

পরবর্তীতে আমি উপলব্ধি করি, জীবন বীমা এমন একটি খাত, যা মানুষের অনিশ্চয়তার সময়ে আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই উপলব্ধি থেকেই বীমা শিল্পে আমার পথচলা শুরু হয় আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি-তে যোগদানের মাধ্যমে।

আমি বিশ্বাস করি, জীবন বীমা শুধু একটি ব্যবসা নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি মানবিক সেবা। আর সেই কারণেই এই খাতকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও বেছে নিয়েছি।

ইকোনমিবাংলা: প্রগতি লাইফ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা এবং স্বপ্নের গল্প বলুন?

মো. জালালুল আজিম: আমার লক্ষ্য প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি কে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং গ্রাহকবিশ্বাসে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়া। আমি চাই, ভবিষ্যতে আমাদের কোম্পানি শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক। আমাদের স্বপ্ন প্রতিটি পরিবারে আর্থিক নিরাপত্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বীমাকে একটি প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

এসএইচ