শাহাদাত হোসেন:
দেশের সাধারণ বীমা কোম্পানি তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম দুর্নীতি, অবৈধ কর্মকাণ্ড, ফ্লোর ক্রয়, প্রশাসনিক অদক্ষতা, অর্থ আত্মসাতসহ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বীমা খাতজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তাকাফুল। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছে, এসব অপকর্মের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নিস্ক্রিয়তা ও দুর্বলতা রয়েছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যানের কাছে অর্থ আত্মাসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগের তদন্ত চেয়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বীমা গ্রাহক ফিরোজ চৌধুরী একটি লিখিত আবেদন করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে ফ্লোর ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ যে চুক্তি করা হয়েছে তার কোন ধরনের কাগজ পত্র প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষন নেই। এই ক্রয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান আছে এবং সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নিকট সকল কাগজ পত্র সংরক্ষণ আছে বলে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, কোম্পানির অফিস ডেকোরেশন বাবদ প্রচুর খরচ দেখিয়ে প্রতি বছরই এই খাতে অর্থ আত্নসাত করা হয়। বাংলাদেশে বিএসইসি এর অধীনে বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করার শেয়ার বাজার ব্রোকারেজ লাইসেন্স ট্রেডিং রাইটি ইনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (টিআরইসি) ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত খরচ হিসাবে ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও বেতন ও ভাতা এবং বিভিন্ন ডামী কর্মকর্তাদের নামে বেতন দেখিয়ে ২৯ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে। ২০২৪ সালে কোম্পানির নিট ব্যবসা সংগ্রহের জন্য প্রায় ৪৮ কোটি টাকা বেতন প্রদান করা হয়েছে যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোম্পানীর চেয়ারম্যান এবং তার সহযোগী কিছু পরিচালকদের বাৎসরিক বিভিন্ন সময় কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর মাধ্যমে প্রায়ই থোকভাবে আনুমানিক প্রতিজনকে ২ দুই লক্ষ টাকা প্রদান করে আসছে। কোম্পানিতে উৎসব ভাতা ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কর্মকর্তাদের বোনাস প্রদান করা হয় যাহার মধ্যে অনেক ডামি কর্মকর্তা সংযুক্ত রয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, বেতনের জন্য প্রভিশন খাতে ৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়াও লোন এবং ওভার ড্রাপট খাতে ১১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। কি কারনে এত টাকা ব্যাংক লোন নেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন দাবী জানান তারা । এই অর্থ কোথায় এবং কিভাবে খরচ করা হয়েছে তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে ভয়ংকর তথ্য।
তাছাড়া কোম্পানির বোর্ড এবং বিভিন্ন কমিটি মিটিং ফি কোম্পানীর প্রয়োজন ছাড়াই অনেক মিটিং আয়োজন করে নির্ধারিত ফি কনভেন্স এবং আপ্যায়ন বাবদ একটা মোটা অংকের টাকা উপস্থিত সদস্যদেরকে প্রদান করা হয়। প্রতিটি মিটিং এ কমিটির সদস্য ছাড়া কয়েকজন পরিচালককে আমন্ত্রিত সদস্য হিসাবে উপস্থিত দেখিয়ে তাদেরকেও টাকা প্রদান করা হয়।
এমন কি ব্যবস্থাপনা পরিচালক একটি নিয়োগকৃত পদ তাকেও প্রতিটি মিটিং এ সদস্য হিসাবে উপস্থিত দেখিয়ে ১ লক্ষ টাকা ফি, কনভেন্স এবং আপ্যায়ন বাবদ প্রদান করা হয়।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়াম্যান আনোয়ার হোসেন এবং সিইও আবুল কালাম আজাদ এর বক্তব্য জানার চেষ্টা করলেও তা পাওয়া যায়নি।
তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বলছে, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখবে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।











