এফবিসিসিআই: দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সিইপিএ চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি কমার প্রত্যাশা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সফলভাবে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (CEPA) স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. ফজলুল হক এই সিইপিএ চুক্তিকে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মোট ১.৩৯ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশ কোরিয়া থেকে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং রপ্তানি করে মাত্র ৪৯২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে রপ্তানি বাড়িয়ে এ ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সিইপিএ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য (৮,৪২৮টি পণ্য) দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা এলডিসি (LDC) গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করলেও বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যায় মাত্র ৩ শতাংশ। সিইপিএ-এর ফলে সেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বড় বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হলো। চুক্তিটির মাধ্যমে শুধু পণ্য বাণিজ্যই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও কারিগরি সহযোগিতাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অত্যন্ত দ্রুততা ও সাফল্যের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সিইপিএ চুক্তি সম্পাদন করায় মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং উক্ত দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা সম্ভব হবে।

ইকোনমি/রুশ