৩৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থায়িত্ব ফেরার প্রেক্ষাপটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিন শেষে দেশের মোট (গ্রোস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭.৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.২৬ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে গত ২ আগস্ট গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথমার্ধেই উভয় সূচকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

তবে রিজার্ভের পুরো অংশ সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক দেনা, আইএমএফের এসডিআর ও আকুর বিলের মতো স্বল্পমেয়াদি বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে যে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, তা অনুযায়ী বর্তমানে দেশের কাছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের নিট রিজার্ভ রয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে এই অর্থ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময়ের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে নিরাপদ।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে অর্থ পাচার ও আমদানি চাপ বৃদ্ধির কারণে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০.৪৮ বিলিয়ন) নেমে এসেছিল। পরবর্তীতে মুদ্রা বাজার সংস্কার, প্রবাস আয় বৃদ্ধির নানা পদক্ষেপ এবং আমদানি নীতি সহজ করার পর থেকে রিজার্ভে পুনরুত্থান দেখা যায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ও এই রিজার্ভ ছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০ বিলিয়ন)।

ইকোনমি/রুশ