প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত অভিযোগনামা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ সালে আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর জহির উদ্দিন কৌশলে কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হন।
জহির উদ্দিনের দ্রুত পদোন্নতি এবং ক্ষমতা দখল
মো. জহির উদ্দিন ২০১৭ সালের ২ জুলাই প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে আইন কর্মকর্তা (ডিজিএম) হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালে কোম্পানি সচিবের পদ শূন্য হলে, তিনি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেন। এর পর থেকে তিনি কৌশলে একে একে কোম্পানির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন, যার মধ্যে কোম্পানি সচিব, হেড অব লিগ্যাল, হেড অব এইচআর, হেড অব উন্নয়ন প্রশাসন, এবং হেড অব এজেন্সি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম
কোম্পানির অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে জহির উদ্দিন নিয়ম বর্হিভূতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাতে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব বিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডের ফলে কোম্পানির দীর্ঘদিনের যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তারা চাকরি ছেড়ে চলে যান বা বাধ্যতামূলকভাবে বরখাস্ত হন। তার নেতৃত্বে কোম্পানির ব্যবসার পোর্টফলিও থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে এবং তাকে তলব করে। ইতিমধ্যেই, তার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নং ৫৪২/২৩। আদালতের নির্দেশে ডিবি দীর্ঘ তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পায় এবং এই বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এছাড়াও, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তার বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা জহির উদ্দিনকে কোম্পানির বিভিন্ন পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং তার কর্মকাণ্ডকে বীমা আইন, ২০১০ এর ধারা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।
মিথ্যা মামলা ও মানহানী
জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি পাল্টা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করেছেন। কোম্পানির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, তিনি বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের ফলে কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের মানহানী করা হচ্ছে।
কোম্পানির পদক্ষেপ
জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কোম্পানি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোম্পানি আরও জানায় যে, তার এসব কর্মকাণ্ডের ফলে কোম্পানির বীমা গ্রাহক এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, কোম্পানি আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।











