শাহাদাত হোসেন
শিক্ষা সনদ জালিয়াতি ও জেনিথ ইসলামী লাইফ থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পরও মো. গোলাম মর্তুজা (জিএম সজল) এখন বীমা খাত নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে করছেন বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের করছেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, দিচ্ছেন হুমকি। তার এহেন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা সজলের শাস্তি দাবী করেছেন। বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ আগষ্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়রী করে আলতাফ হোসেন নামের একজন বীমা কর্মকর্তা। জিডি নম্বর- ৩৭৭।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামসহ বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে অপপ্রচার করায় জিএম সজলের বিরুদ্ধে এই জিডি করা হয়। জিডিতে আলতাফ হোসেন ফেসবুকে সজলের অপপ্রচারের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
জিডিতে বলা হয়, এম জিএম সজল নামের জনৈক ব্যক্তি ফেইসবুক লাইভে এসে ‘ব্যাংক বীমা প্রতিদিন ও বীমা সংবাদ প্রতিদিন’ নামীয় দু’টি ফেইসবুক একাউন্ট থেকে দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্স ফোরাম, আইডিআরএ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করছেন। একইসঙ্গে পপুলার লাইফের সিইও বি এম ইউসুফ আলী, কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবিরসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ছবি দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি, বিভিন্ন আন্দোলনের ডাক দিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও মন্তব্য করে ব্যাপক মানহানী ও সুনাম ক্ষুন্ন করছেন।
এমনকি গত দু’দিন আগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে উস্কানি মূলক ও বিভ্রান্তিকর ভক্তব্য দিতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্দোলনরত কর্মীদের পিছনে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভে বীমাখাত নিয়ে মিথ্যাচার করেন।

অজ্ঞাত কোন কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে উক্ত এম জি এম সজল নামধারী ব্যক্তি বীমা সেক্টরকে ধ্বংস করার জন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ও মন্তব্য করে বীমা সেক্টরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বীমা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত অস্থিতিশীল করছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তার উস্কানীমূলক বক্তব্য, মিথ্যা হয়রানীর অপচেষ্টা এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনমূলক অনলাইনে পোস্ট তদন্ত করে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়।
এরআগে এ শিক্ষা সনদ জালিয়াতি, ব্যবসা ও সংগঠন সম্প্রাসরণে ভূমিকা না রাখা ও যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ এনে সজলকে বহিস্কার করে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা “জেডআইএলআইএল/প্রকা/উপ্র/২০১৮/-০২১২” পত্রে আরো বলা হয়েছে, অত্র কোম্পানিতে জমাকৃত ব্যক্তিগত নথি থেকে গোলাম মর্তুজার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ জাল বলে প্রতীয়মান হয়, যা ফৌজদারী অপরাধ।
এছাড়াও এম জি এম সজল নিজেকে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (আইডিএবি) নামে বীমা পেশাজীবীদের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যন ও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দাবী করছেন। তবে এই সংগঠনের কোন সরকারী অনুমোদন নেই। এমনকি তাদের কোন অফিস ও ব্যাংক একাউন্ট নেই। বাসায় বসেই সংগঠনের পরিচয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছেন। আইডিএবি একটি অলাভজনক সংগঠন হিসেবে প্রচার করলেও সংগঠনটির উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে করছেন এওয়ার্ড বাণিজ্য, বিভিন্ন বীমা কর্মীদের দিচ্ছেন নানা রকম প্রশিক্ষণ। তার এহেন কর্মকান্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। জাল সনদ নিয়ে, বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কৃত লোক কিভাবে অবৈধ সংগঠনের ব্যানারে কিভাবে এসব বির্তকিত কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন সেই প্রশ্ন তাদের। বীমা খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্থরা বীমা খাতের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছনতার জন্য সজলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
ক্ষুব্ধ বীমা কর্মী মো. আল আমীন বলেন, শুধু জিডি নয়, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে জিএম সজলকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।











