ডিএসই: কর্মচারী ছাঁটাই নিয়ে বিভ্রান্তি, ডিএসই সবাইকে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)-তে কিছু কর্মচারীর চাকরির অবসান (টার্মিনেশন) নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (০২ আগস্ট) ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএসইকে আরও গতিশীল ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করতে ২০২২ সাল থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমিত সংখ্যক কর্মচারীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট ৩৫০ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের (মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম) অবসান ঘটেছে। এটি কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয় এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্য ছিল না।

ডিএসই স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ এবং ডিএসইর নিজস্ব সার্ভিস রুল অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, নোটিশ প্রদান বা তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরির অবসান ঘটানোর বিধান রয়েছে। ফলে এটিকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা অসদাচরণের অভিযোগের সঙ্গে মেলানোর সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ৪ মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিদায়ী কর্মীদের অতিরিক্ত ২ মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেককে মোট ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার পর্যাপ্ত সময় পান।

এছাড়া ফাইনাল সেটেলমেন্টের আওতায় প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং অর্জিত ছুটির নগদায়নসহ অন্যান্য সব পাওনা নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হবে। দ্রুত পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে তাঁদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় বিদায়ী কর্মীদের সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। তাঁদের সাথে পেশাদার ও সংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেকেই যথাযথ অভিজ্ঞতা সনদ (Experience Certificate) পাবেন।

চাকরির অবসানের পর কিছু ব্যক্তির অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিএসই সবাইকে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছে। পুঁজিবাজারের এ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে তারা সবসময় আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।