পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ থেকে একাধিক চেকের প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত দুই কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল কালাম আজাদ, তাকাফুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল হক এবং কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আনোয়ার হোসেন খানের যোগসাজশে এ অর্থ আত্মাসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগের তদন্ত চেয়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষে দেয়া ওই অভিযোগ এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি বিভিন্ন সময়ে তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজকে কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। কি কারণে এত টাকা অগ্রিম বা ঋণ প্রদান করা হয়েছে তার কোন হিসাব বা বিস্তারিত নোট আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। এমনকি এসব ঋণ সিকিউরিটিজ কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে কি না, তাও জানা যায়নি। তবে তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ থেকে তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের অনুকূলে ইস্যুকৃত অন্তত দুই কোটি টাকার আলাদা দুটি চেকে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার অভিযোগ এসেছে আইডিআরএ’র কাছে।
আইডিআরএ’র হাতে আসা এসব চেকের অনুলিপিতে দেখা যায়, তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০২৩ সালের ০১ অক্টোবর তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নামে এক কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করে। চেকের স্বাক্ষরকারী ছিলেন তাকাফুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল হক ও পদাধিকারবলে সিকিউরিটিজের পরিচালক তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের সিইও আবুল কালাম আজাদ। একই দিনে চেকটিতে ওই তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের নাম কেটে শাহাদাৎ ট্রেডার্সের নামে ইস্যু করা হয়। যে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান।
২০২৪ সালের ০১ জানুয়ারি তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড থেকে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নামে এক কোটি টাকার আরো একটি চেক ইস্যু করা হয়। আগের মতোই একই দিনে চেকের প্রাপক হিসেবে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের নাম কেটে মর্ডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে লেখা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মালিকও আনোয়ার হোসেন খান। এই চেকেরও স্বাক্ষরকারী ছিলেন তাকাফুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল হক ও পদাধিকারবলে সিকিউরিটিজের পরিচালক তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের সিইও আবুল কালাম আজাদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ মূলত তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের নামে এসব চেক ইস্যু করে পরবর্তীতে যোগসাজশে এসব অর্থ আত্মসাৎ বা পাচার করা হতে পারে।
জানতে চাইলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকেও অর্থ লেনদেনের এই প্রক্রিয়াটিতে মানিলন্ডারিং বা চেক জালিয়াতি প্রতীয়মান বলে মন্তব্য করেছে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের সিইও আবুল কালাম আজাদ এবং সিকিউরিটিজের সিইও সামিউল হকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করলেও তা পাওয়া যায়নি।
তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বলছে, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখবে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।











