বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় লাফ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ডলারের মান কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ডলারের মান কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিকসংবাদ

বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ১.৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৩০.০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের সেশনে ৩১ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৪২.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের মান ০.৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়েছে। বিশ্লেষক রস নরম্যানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা স্বর্ণের দামের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার ধারণা, বর্তমান প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে স্বর্ণের দাম আপাতত নিম্নস্তরে পৌঁছে গেছে এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেছে। যদিও অস্থির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবুও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকের মতে, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আবার বাড়ছে। উইজডমট্রির কৌশলবিদ নিতেশ শাহ বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা স্বাভাবিক, এবং বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই তৈরি হচ্ছে।

অন্য ধাতুগুলোর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট সিলভার ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬০ ডলার, প্ল্যাটিনাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৪১ দশমিক ৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এই তিন ধাতুই টানা দ্বিতীয় মাস দরপতনের পথে রয়েছে।

দেশীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায়।

অন্যদিকে রুপার দামও নির্ধারিত হয়েছে নতুনভাবে। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।