লিমন ও বৃষ্টি হত্যা রহস্য নিয়ে যা বলছে এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু এলাকায় পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমনকে হত্যার অভিযোগে তার রুমমেট, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হিলসবরো কাউন্টির লেক ফরেস্ট এলাকায় সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আবুগারবিয়েহ নিজ বাসা থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানালে সোয়াট দল মোতায়েন করা হয়। পরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বের হয়ে এলে তাকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক সহিংসতার মামলা ছিল। ২০২৩ সালে চুরি, মারধর এবং গৃহস্থালির সহিংসতার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের আরেকটি মামলা ছিল।

জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল গবেষক ছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশলে পড়াশোনা করছিলেন। তাদের দুজনকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল একসঙ্গে দেখা যায়। পরদিন একজন পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান।

নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের মেরিন ও ডাইভ ইউনিট হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর আশপাশের নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট এবং ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহপরিচালক ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেন, ঘটনাস্থলের প্রমাণ ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তথ্য দেখে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত নয়, বরং হঠাৎ রাগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিচিতদের মধ্যে এমন সহিংস ঘটনায় সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা বা ব্যক্তিগত বিরোধ জড়িত থাকে। তার ধারণা, এটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভের কারণে ঘটতে পারে এবং কারণটি হয়তো তুচ্ছ কিছু ছিল।

হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা, যা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে তদন্তকারী দল নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দোষীদের সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।