সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আবারও আদালতে জমা পড়েনি। ফলে এ নিয়ে ১২৬তম বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছাল। নতুন করে আগামী ১৮ জুন প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। নির্ধারিত দিনে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে আদালত নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-রুনির বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ (ওরফে হুমায়ুন কবির), রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু (ওরফে বারগিরা মিন্টু/মাসুম মিন্টু), কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। মামলার একাধিক আসামিকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলেও কারও কাছ থেকেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া যায়নি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে তদন্ত করে ওই থানার এক উপপরিদর্শক। চার দিনের মধ্যেই তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। তবে দুই মাসের তদন্তেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ তদন্তেও অগ্রগতি না আসায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটি নতুনভাবে তদন্তের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেন। একই সঙ্গে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে টাস্কফোর্স গঠন করে। চার সদস্যের এই কমিটিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।











